Muso Jam

এমডিটি অ্যাপ্রোচ: সমন্বিত চিকিৎসায় ক্যানসার জয় করা সম্ভব

· Prothom Alo

এসকেএফ অনকোলজির আয়োজনে ‘বিশ্বমানের ক্যানসার চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে’ শীর্ষক অনলাইন আলোচনা বুধবার (২০ মে) অনুষ্ঠিত হয়

ক্যানসার মানেই মৃত্যু—চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব অগ্রগতির যুগে এসে এ ধারণাটি ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে সঠিক সময়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতির সমন্বয়ে ক্যানসারকে জয় করা সম্ভব। তবে ক্যানসারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় কোনো একক চিকিৎসকের পক্ষে শতভাগ সাফল্য আনা কঠিন। আর এ ভাবনা থেকেই বিশ্বজুড়ে এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিম’ বা এমডিটি অ্যাপ্রোচ, যা বাংলাদেশেও ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

বুধবার (২০ মে) এসকেএফ অনকোলজির আয়োজনে ‘বিশ্বমানের ক্যানসার চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে’ শীর্ষক বিশেষ অনলাইন আলোচনায় এ যুগান্তকারী চিকিৎসাব্যবস্থার নানা দিক তুলে ধরেন দেশের চারজন তরুণ ও অভিজ্ঞ অনকোলজি বিশেষজ্ঞ। তাঁরা হলেন ডা. ইশতিয়াক আহমেদ অনিক, ডা. জুলফিকার সাইফ, ডা. মো. সাজিদ রেজওয়ান ও ডা. মো. সুমন আলি। নাসিহা তাহসিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি প্রথম আলো ও এসকেএফ অনকোলজির ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।

ক্যানসারের ক্রমবর্ধমান প্রকোপ ও কারণ

আলোচনার শুরুতেই দেশে ক্যানসারের আশঙ্কাজনক বৃদ্ধি এবং এর কারণ নিয়ে কথা বলেন জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. ইশতিয়াক আহমেদ অনিক। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় জরিপ উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশে প্রতিবছর প্রতি লাখে প্রায় ৫৩ থেকে ১০৬ জন মানুষ নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং মৃত্যুর মোট হারের প্রায় ১২ শতাংশই এখন ক্যানসারজনিত কারণে ঘটছে। গত ১০ বছরে এই বৃদ্ধির হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এর মূল কারণ হিসেবে তিনি আমাদের দেশের মানুষের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য যেমন জর্দা, চুন, গুল, সাদা পাতা ব্যবহারের দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাসকে দায়ী করেন। বিশেষ করে মুখগহ্বর, খাদ্যনালি ও ফুসফুসের ক্যানসারের পেছনে এই তামাক ও ঢাকার মারাত্মক বায়ুদূষণে সরাসরি ভূমিকা রাখছে। এর পাশাপাশি মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বার্ধক্যজনিত ক্যানসার যেমন বাড়ছে, ঠিক তেমনি আধুনিক জীবনের অনিয়মিত লাইফস্টাইল, রাত জাগা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং ফাস্টফুড বা প্রসেসড ফুড খাওয়ার প্রবণতা এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে রোগীর তুলনায় দেশের চিকিৎসা অবকাঠামো ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা এখনো পর্যাপ্ত নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ক্যানসার চিকিৎসায় ‘এমডিটি’ বা সমন্বিত টিম অ্যাপ্রোচ কী

ক্যানসার চিকিৎসায় এক নতুন ফিলোসফি বা ধারণা ‘অ্যাসুরেন্স এমডিটি’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট ডা. জুলফিকার সাইফ। তিনি বলেন, ‘ক্যানসার চিকিৎসায় আসলে কোনো একক হিরো হওয়ার সুযোগ নেই, এটি সম্পূর্ণ একটি “টিম গেম”। উন্নত বিশ্বে বহু আগে থেকেই এই পদ্ধতিকে চিকিৎসায় “স্ট্যান্ডার্ড অব কেয়ার” ধরা হয়।’

এমডিটি বা মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিমে মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট, সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট, রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট, প্যাথোলজিস্ট, রেডিওলজিস্টের পাশাপাশি প্রয়োজনে হিমাটোলজিস্ট, সাইকিয়াট্রিস্ট এবং অনকোলজি নার্সরাও অন্তর্ভুক্ত থাকেন। এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো রোগীকে সামগ্রিক সেবা দেওয়া। এতে শুধু টিউমার বা ক্যানসারের চিকিৎসাই হয় না, বরং চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দূর করা, মানসিক ট্রমা কাটানো এবং রোগীকে আবার স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরিয়ে আনার সব ব্যবস্থা একসঙ্গে করা হয়। বাংলাদেশে আগে চিকিৎসকেরা যাঁর যাঁর মতো আলাদাভাবে রোগী দেখতেন কিন্তু এ পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে সবাইকে একছাতার নিচে এনে রোগীর সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

সঠিক চিকিৎসা পরিকল্পনা ও এমডিটির কার্যকারিতা

একটি সঠিক ও নিখুঁত ট্রিটমেন্ট প্ল্যান তৈরিতে এমডিটির ভূমিকা কতটুকু, তা ব্যাখ্যা করেন ডা. ইশতিয়াক আহমেদ অনিক। তিনি বলেন, ‘ক্যানসারের নিখুঁত রোগনির্ণয় এবং কোনো ধরনের বিলম্ব ছাড়া দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে এই টিম সবচেয়ে বেশি কাজ করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ইন্ডিভিজুয়ালাইজড ট্রিটমেন্ট প্ল্যান’। অর্থাৎ একই অঙ্গের ক্যানসার হলেও স্টেজ ও রোগীর শারীরিক অবস্থাভেদে একেকজনের চিকিৎসার ধরন একেক রকম হতে পারে।’

এমডিটির সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা

ডা. জুলফিকার সাইফ এমডিটি পদ্ধতির সুবিধা এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর সীমাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, এ পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ভুল চিকিৎসা প্রতিরোধ করা এবং গাইডলাইন মেনে চিকিৎসা দেওয়া। উদাহরণস্বরূপ, ব্রেস্ট ক্যানসারের ক্ষেত্রে আগে সার্জারি নাকি আগে কেমোথেরাপি দিলে রোগী বেশি উপকৃত হবেন, তা যৌথ আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়। এর ফলে রোগীকে আলাদাভাবে সার্জন বা অনকোলজিস্টের দ্বারে দ্বারে ঘুরে সময় ও অর্থ নষ্ট করতে হয় না। তবে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় এখনো এই বিশেষজ্ঞ সুবিধা বা পর্যাপ্ত ম্যানপাওয়ার না থাকাটা এই পদ্ধতির একটি বড় সীমাবদ্ধতা। বর্তমানে এই সেবা নিতে রোগীদের অন্তত বিভাগীয় শহর পর্যন্ত আসতে হচ্ছে।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার গুরুত্ব এবং বায়োপসি নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা

ক্যানসার চিকিৎসায় কেন এত বেশি পরীক্ষা করতে হয়, তা স্পষ্ট করেন ডা. ইশতিয়াক আহমেদ অনিক। তিনি জানান, শুধু একটি সাধারণ বায়োপসি দেখেই এখন আর চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব নয়। ক্যানসারের সুনির্দিষ্ট টাইপ বুঝতে আইএইচসি পরীক্ষা, স্টেজিং জানার জন্য সিটি স্ক্যান, এমআরআই বা পেট-সিটি স্ক্যান এবং আধুনিক টার্গেটেড বা ইমিউনোথেরাপির জন্য বিভিন্ন জেনেটিক মার্কার টেস্ট করতে হয়। সঠিক পরীক্ষার মাধ্যমেই কেবল নিখুঁত চিকিৎসায় যাওয়া সম্ভব।

আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ভয় রয়েছে—বায়োপসি করলে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ে। এই ভ্রান্ত ধারণার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেন সার্জিক্যাল অনকোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. মো. সাজিদ রেজওয়ান। তিনি পরিষ্কার করে বলেন, ‘বায়োপসি করলে ক্যানসার ছড়িয়ে যাওয়ার ধারণাটি অধিকাংশ সাধারণ ক্যানসারের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অসত্য। ব্রেস্ট, কোলন বা স্টমাক ক্যানসারের ক্ষেত্রে বায়োপসি করা অত্যন্ত নিরাপদ এবং জরুরি।’

ডা. মো. সাজিদ রেজওয়ান জানান, সার্জনরা যখন অপারেশন করেন, তখন বায়োপসি করার জন্য যে সুই বা ট্র্যাক ব্যবহার করা হয়েছিল, সেই অংশটুকুসহ মূল টিউমারটি কেটে ফেলে দেন। ফলে আলাদাভাবে ছড়ানোর কোনো সুযোগ থাকে না। তবে লিভার, প্যানক্রিয়াস, পিত্তথলি বা কিডনির মতো কিছু নির্দিষ্ট ক্যানসারে উন্নত ইমেজিং দেখেই রোগ নির্ণয় করা হয়, সেখানে সাধারণত বায়োপসি করা হয় না। আর এই সূক্ষ্ম সিদ্ধান্তগুলো যাতে ভুল না হয়, সে জন্যই এমডিটি প্রয়োজন।

খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন: কোলোরেক্টাল ক্যানসার প্রতিরোধ

খাবারদাবার ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্যানসার এড়ানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন কোলোরেক্টাল সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. মো. সুমন আলি। তিনি জানান, কোলোরেক্টাল (বৃহদন্ত্র ও মলাশয়) ক্যানসারের প্রধান দুটি কারণ হলো পরিবেশ বা খাদ্যাভ্যাস এবং বংশগত। আমাদের বর্তমান জেনারেশনের মধ্যে রেড মিট (লাল মাংস), অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার, প্রসেসড বা স্মোকড ফুড খাওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি, যা পেটের নাড়িতে গিয়ে ক্যানসারের কোষ তৈরিতে উদ্দীপনা জোগায়।

আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্ম মাছে-ভাতে বাঙালি ছিলেন এবং তাঁরা প্রচুর শাকসবজি ও ফাইবার জাতীয় খাবার খেতেন, তাই তাঁদের এই রোগ কম হতো। ডা. সুমন পরামর্শ দেন, ফাস্টফুড পরিহার করে খাবারে শাকসবজি ও ফলের পরিমাণ বাড়ালে এই ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। এ ছাড়া ৪৫ বা ৫০ বছর বয়সের পর নিয়মিত কোলোনোকোপি স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক অবস্থায় বা পলিপ থাকা অবস্থায় রোগটি শনাক্ত করলে তা শতভাগ নিরাময় সম্ভব।

স্টেজ ফোর ক্যানসার ও দেশীয় ওষুধের কার্যকারিতা

স্টেজ ফোর মানেই কি জীবনের শেষ? সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. জুলফিকার সাইফ জানান, প্রথাগত চিকিৎসায় স্টেজ ফোর ক্যানসারের ফলাফল আশাব্যঞ্জক না হলেও আধুনিক ইমিউনোথেরাপি এই ধারণাকে বদলে দিচ্ছে। যেমন কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ক্ষেত্রে যদি রোগটি শুধু লিভারে ছড়ায়, তবে তা নিরাময় করা সম্ভব। এমনকি অন্যান্য জটিল ক্যানসারেও ইমিউনোথেরাপির কল্যাণে এখন ১০ থেকে ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরাময় বা দীর্ঘায়ু পাওয়া যাচ্ছে। যদিও এই চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, তবে গবেষকদের আশা, আগামী ১০ বছরের মধ্যে এই ওষুধের দাম সাধারণের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।

অনেকের মনে আরেকটি সাধারণ ক্ষোভ থাকে যে ‘বাংলাদেশের ওষুধ ঠিকমতো কাজ করে না’। এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভ্রান্ত বলে উড়িয়ে দেন ডা. ইশতিয়াক আহমেদ অনিক। তিনি আশ্বস্ত করেন, দেশের প্রতিটি ক্যানসার ড্রাগ অত্যন্ত কঠোর কোয়ালিটি মেইনটেইন করে এবং ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সুনির্দিষ্ট সার্টিফিকেট নিয়েই বাজারে আসে। কোনো ওষুধের প্রতি রোগীর শরীর আগে থেকেই রেজিস্ট্যান্ট বা প্রতিরোধী থাকলে সেটি আলাদা বিষয়, কিন্তু দেশি ওষুধ আন্তর্জাতিক মানের এবং এটি সমানভাবে কার্যকর।

অনলাইন আলোচনায় ক্যানসারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় যুগান্তকারী চিকিৎসাব্যবস্থার নানা দিক তুলে ধরেন দেশের চারজন তরুণ ও অভিজ্ঞ অনকোলজি বিশেষজ্ঞ

গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড বনাম বাংলাদেশের চিকিৎসা

বাংলাদেশের চিকিৎসা কি বৈশ্বিক মান থেকে পিছিয়ে আছে? এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তরে ডা. মো. সাজিদ রেজওয়ান অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘আমাদের দেশের ক্যানসার সার্জারির মান এখন আমেরিকা, ইন্ডিয়া বা সিঙ্গাপুরের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। গ্লোবাল ভিলেজের কল্যাণে আমাদের সার্জনরা বিশ্বমানের সব টেকনিক ব্যবহার করছেন। ব্রেস্ট ক্যানসারের মতো সার্জারিতে এশিয়া মহাদেশের অন্যতম সেরা সার্জনরা বাংলাদেশেই আছেন। মানুষ অনেক সময় প্রচারণার অভাব এবং পুরোনো মনস্তাত্ত্বিক কারণে বিদেশে ছোটেন। অথচ বিদেশে গিয়ে অপারেশনেই সব টাকা শেষ করে ফেলার কারণে পরবর্তী সময়ে ক্যানসারের ব্যয়বহুল চিকিৎসা তাঁরা আর চালাতে পারেন না।’

কোলোরেক্টাল সার্জারির আরেকটি বড় আতঙ্ক হলো ‘সারা জীবন পেটে মলত্যাগের ব্যাগ (স্টোমা ব্যাগ) বয়ে বেড়াতে হবে।’ ডা. মো. সুমন আলি এই আতঙ্ক দূর করে জানান, সব অপারেশনে ব্যাগ লাগে না। মূলত তিনটি ক্ষেত্রে ব্যাগ ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে দুটি ক্ষেত্রই সাময়িক। মলাশয়ের মাঝখান বা নিচের অংশের ক্যানসারে এবং ক্যানসারের কারণে নাড়ি সম্পূর্ণ ব্লক হয়ে ফুলে গেলে অপারেশনের পর একটি সাময়িক ব্যাগ দেওয়া হয়, যা পরে আবার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে স্বাভাবিক করে দেওয়া হয়। কেবল ক্যানসারটি যদি পায়ুপথের একদম নিচে বা পায়খানা নিয়ন্ত্রণকারী মাংসপেশিতে ছড়িয়ে যায়, তখনই স্থায়ী ব্যাগ দেওয়া হয়। আধুনিক সার্জারির কল্যাণে এখন অধিকাংশ রোগীই ব্যাগ ছাড়াই সুস্থ জীবন যাপন করছেন।

কম্প্যাশনেট কেয়ার ও মানসিক শক্তির গুরুত্ব

অনুষ্ঠানের শেষ ভাগে চিকিৎসকেরা ‘কম্প্যাশনেট কেয়ার’ বা সহানুভূতিশীল সেবার ওপর বিশেষ জোর দেন। ডা. জুলফিকার সাইফ জানান, অনকোলজি এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে শুধু গাইডলাইন বা মেশিনের মতো চিকিৎসা করলেই হয় না। আমাদের দেশে যেহেতু কোনো হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেই এবং রোগীদের পকেট থেকে চিকিৎসার খরচ দিতে হয়, তাই চিকিৎসকদের রোগীর জায়গায় নিজেকে বা নিজের পরিবারের মানুষকে কল্পনা করে সহানুভূতির সঙ্গে সেবা দিতে হবে।

ক্যানসার রোগীরা বাসায় যাওয়ার পর নানা জটিলতায় পড়েন। তখন চিকিৎসকের একটুখানি আশ্বাস বা ফোনকলের উত্তর তাদের অনেক বড় মানসিক শক্তি দেয়।

সঠিক সময়ে সচেতনতা, আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং এমডিটি বা সমন্বিত চিকিৎসাব্যবস্থার প্রসারই বাংলাদেশকে ক্যানসারমুক্ত করে গড়ে তুলতে পারে বলে মত দেন চিকিৎসকেরা।

Read full story at source

Australia's Caldwell kicks to victory

· Brisbane Times

Second Ebola treatment centre torched in Congo, 18 suspected patients flee

· India Today